নিজস্ব প্রতিবেদক, 20 February-2017, 01:32:46pm

অবৈধভাবে পরিচালিত রাজধানীর গুলশানের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দু-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে।
 
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামছুন্নাহার নিজামী এ প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
 
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সুপারিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নিজামীর স্ত্রীসহ প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটিতে জামায়াত-শিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা আছেন। এ প্রতিষ্ঠান ঘিরে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আছে। গত ১৯ আগস্ট এ স্কুলের মেরুল বাড্ডার শাখা থেকে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন ছাত্রী সংস্থার কয়েকজনকে আটকের ঘটনাও আছে। পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান যুগান্তরকে বলেন, ‘শুধু এ স্কুলটিই নয়, সরকারের অনুমোদন ছাড়া যত স্কুল আছে সব আমরা বন্ধ করে দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে গুলশানের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের মতো যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আছে, সেগুলো বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখছি। এ ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আশপাশের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নির্দেশনা দেয়া হবে।’
 
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ৫ জানুয়ারি সেটি তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তাতে এক মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মতামত চায়। বোর্ডের মতামত ও সুপারিশের আলোকেই মন্ত্রণালয় স্কুলটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গুলশান-১ নম্বর সাার্কেলের ৯ নম্বর বাড়িতে ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ পরিচালনার জন্য সাময়িক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা বোর্ড কোনো অনুমোদন দেয়নি। এ ছাড়া গুলশানেরই ২১ নম্বর সড়ক ও মেরুল বাড্ডায় স্কুলের ক্যাম্পাস আছে। ওইসব ক্যাম্পাসের জন্য কোনো আবেদনই করা হয়নি। অনুমোদনহীন স্কুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
 
পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশানের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ সম্পর্কে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানের দুটি শাখার খোঁজ মিলেছে। একটির ঠিকানা বাড়ি # ১৮, রোড # ৯, গুলশান-১ ও অপরটির বাড়ি # ১৫, রোড # ২১ গুলশান-১। দুটি শাখাই ২০০০ সাল থেকে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়ার পাশাপাশি ইসলাম ধর্মীয় ধারার বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজিং কমিটি দিয়ে পরিচালিত। শুরু থেকেই জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামছুন্নাহার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
 
এতে আরও বলা হয়, যে কোনো স্কুল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ২০০৫ সালের ১৭ মে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে বলে দাবি করেছে। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
 
যদিও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এডেক্সেল ইন্টারন্যাশনালের (ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার জন্য ব্রিটিশ বোর্ড) অনুমতিক্রমে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এডেক্সেল অনুমোদন সার্টিফিকেট ত্রুটিপূর্ণ।
 
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ওবাইদুল্লাহ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক আলমগীর মো. ইউসুফ পরিচালিত ইনভাইটস পিস স্কুলের প্রধান সমন্বয়ক। জামায়াত-শিবিরের অননুমোদিত স্কুলের কার্যক্রম গুলশানের মতো কূটনৈতিক এলাকায় পরিচালনায় জনমনে ক্ষোভ-সংশয়ের সৃষ্টি করছে।
 
প্রতিবেদনে গুলশান এলাকার দুটি ক্যাম্পাসের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২টি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৬৮ জন ছাত্র ও ১১৭ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত। প্লে-গ্রুপ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ২৪ জন অফিস স্টাফ আছেন। ৯ নম্বর সড়কের স্কুলটি ৩ তলাবিশিষ্ট। যার মাসিক ভাড়া ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২১ নম্বর সড়কের বাড়িটি ৪ তলাবিশিষ্ট। যার মাসিক ভাড়া ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্লে-গ্রুপ থেকে কেজি-২ পর্যন্ত মাসিক বেতন ৫ হাজার ৬০০ টাকা। ১ম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণীর মাসিক বেতন ৬ হাজার টাকা। ৫ম শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর মাসিক বেতন ৬ হাজার ২০০ টাকা। ৭ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত মাসিক বেতন ৬ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ট্যাক্স নেয়া হয়।




এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া

ফেইসবুক পেইজের দায় নিচ্ছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

দুই বছর আগে কেক কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ উদ্বোধন করলেও একটি পোস্ট নিয়ে

শাবিপ্রবি'র ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ-সিলেট

ইবিতে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক একুশে কর্নার উদ্বোধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক একুশে কর্নার উদ্বোধন করা হয়েছে।

রাবি ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কমিটি : সভাপতি শাকিল ও সম্পাদক আসিফ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে

আগামী ৩০ ফেব্রুয়ারি আবার গণিত পরীক্ষা! বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

আগামী ৩০ ফেব্রুয়ারি এসএসসির গণিত পরীক্ষা আবার অনুষ্ঠিত হবে! বেসরকারি দুইটি টেলিভিশন চ্যানেলের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে রাশিয়া সরকার

রাশিয়া সরকার প্রতি বছরের মতো এবছরেও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৭-২০১৮