breaking news



নিজস্ব প্রতিবেদক, 21 February-2017, 02:05:55pm

মদিনা ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর। প্রিয় নবী (সা.) ও অসংখ্য সাহাবায়ে
কেরামের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র এই নগরী। মদিনা শব্দটি শোনামাত্রই হৃদয়ের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে এক শান্তিপূর্ণ ভূখন্ডের ছবি। কল্পনার পাখায় চড়ে মন চলে যায় পবিত্র সে শহরে। স্বপ্নের সেই নগরীতে।
মসজিদে কুবা : মদিনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম হুজুর (সা.) স্বীয় হাতে মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন। যার প্রশংসায় আল্লাহ বলেন ‘যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার ওপর...।’ (সূরা তওবা : ১০৮)।
প্রতি শনিবার হুজুর (সা.) হেঁটে বা সওয়ার হয়ে এখানে এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তিনি বলেন, যদি কেউ মসজিদে কুবায় নামাজ পড়ে তাহলে সে একটি ওমরার সওয়াব পাবে।
মসজিদে জুমা : মাত্র কয়েক দিন কুবায় অবস্থান করে প্রিয় নবী (সা.) মদিনার দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে বনি সালিম গোত্রে তিনি প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন। ইসলামের প্রথম জুমা এখানে আদায় হয়েছে বলে এ মসজিদকে মসজিদে জুমা বলা হয়।
মসজিদে নববি : মদিনায় পৌঁছে হুজুর (সা.) আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম হজরত আবু আইয়ুব আনসারীর (রা.) বাড়ি সংলগ্ন একটি জমি ক্রয় করে সেখানে নিজ হাতে একটি মসজিদ তৈরি করেন, যা মসজিদে নববি নামে পরিচিত। হুজুর (সা.) বলেন, আমার এ মসজিদে নামাজ পড়া মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যত্র হাজার নামাজ অপেক্ষা উত্তম। এবং তিনি যে তিন মসজিদকে ভিত্তি করে ভ্রমণ বৈধ বলেছেন, মসজিদে নববি তার মধ্যে একটি।
মসজিদে কেবলাতাইন : দ্বিতীয় হিজরির রজব বা শাবান মাসে কেবলা পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। ওয়াদিয়ে আকিকের পাশে এক মসজিদে সাহাবায়ে কেরাম রুকু অবস্থায় এ খবর শোনেন। তখনই তারা কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। যার ফলে এ মসজিদকে মসজিদে কেবলাতাইন বলা হয়।
মসজিদে দিরআ : তৃতীয় হিজরিতে হুজুর (সা.) ৭০০ সাহাবা নিয়ে রওয়ানা করেন ওহুদের দিকে। পথিমধ্যে এক মসজিদে আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন এবং যুদ্ধের বর্ম পরিধান করেন। যার ফলে ওই মসজিদের নাম রাখা হয় মসজিদে দিরআ।
মসজিদে নববির দুই মাইল পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক খন্দক প্রান্তর। যার পাশে অতি অল্প পরিসরে রয়েছে পাশাপাশি ছয়টি মসজিদ। মসজিদে ফাতহ, মসজিদে সালমান ফারসি, মসজিদে আবু বকর সিদ্দিক, মসজিদে ওমর, মসজিদে আলী ও মসজিদে ফাতেমা। এ ছয়টি মসজিদের সঙ্গে মসজিদে বনি হারাম বা মসজিদে কেবলাতাইনকে যোগ করে একসঙ্গে সাবয়ে মসজিদও বলা হয়। এর পাশেই রয়েছে মসজিদে রায়া। যেখানে বসে হুজুর (সা.) পরিখা খননের কাজ পরিচালনা করেন।
পানির কূপ : তৎকালীন যুগে মদিনা মোনাওয়ারায় অসংখ্য কূপ খনন করা হয়, যার কয়েকটা এখনও স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলোÑ
বিরে আরিস বা খাতেম : এই কূপের পাশেই হুজুর (সা.) হজরত আবু বকর, ওমর ও ওসমান (রা.) কে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। এটি মসজিদে কুবার পশ্চিম দিকে ছিল।
বিরে গুরস : এই কূপটি মসজিদে কোবা থেকে পূর্বদিকে আধা মাইল দূরে অবস্থিত। এই কূপের পানি দিয়ে হুজুর (সা.) ওজু করেন, পান করেন।
বিরে উসমান : এটি মসজিদে কেবলাতাইনের সামনে ও ওয়াদিয়ে আকিকের উত্তরে অবস্থিত। ততকালীন ৪৩ হাজার দেরহাম দিয়ে ওসমান (রা.) তা ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুল (সা.) বলেন, কল্যাণকর দান হচ্ছে ওসমানের দান।
বিরে বুজাআ : এই কূপটি মসজিদে নববির উত্তরে অবস্থিত। হুজুর (সা.) বলেন, এর পানি পবিত্র। কোনো কিছু এর পানিকে অপবিত্র করতে পারে না। এছাড়াও মদিনায় অবস্থিত হাদিসে বর্ণিত কিছু কূপের নাম উল্লেখ আছে। বিরেহা, বিরে আনাস ইবনে মালেক, বিরে সুকয়া, বিরে জারওয়ান, বিরে উরওয়া ইত্যাদি।
ওয়াদিয়ে আকিক : এটি মসজিদে নববির পশ্চিমে ও মদিনা ইউনিভার্সিটির সামনে অবস্থিত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, এক রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত জিবরাঈল (আ.) আসেন। অতঃপর বলেন, এই জলাশয় হলো মুবারক জলাশয় অর্থাৎ ওয়াদিয়ে আকিক। হজরত ওমর (রা.) এই ওয়াদির মাটি দিয়ে মসজিদে নববির জমি ভরাট করেন। এছাড়াও রয়েছে ওয়াদিয়ে বাতহান, ওয়াদিয়ে মুজাইনি ইত্যাদি।
ওহুদ পাহাড় : মসজিদে নববি থেকে তিন মাইল উত্তরে এর অবস্থান। এই পাহাড়ের পাদদেশে ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রাসুল (সা.) বলেন, এটি ওহুদ পাহাড়। সে আমাদের ভালোবাসে আমরাও তাকে ভালোবাসি।
রুমাত পাহাড় : এ পাহাড়ের অপর নাম আইনাইন। ওহুদ ময়দানের দক্ষিণ প্রান্তে এর অবস্থান। হুজুর (সা.) ওহুদ যুদ্ধের সময় এই পাহাড়ের ওপর আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) এর নেতৃত্বে ৫০ জন তীর নিক্ষেপকারীকে অটল এবং দৃঢ় থাকতে বলেছিলেন।
সিলআ পাহাড় : এটি মসজিদে নববির উত্তর-পশ্চিম কোণে সাবআ মসজিদের পূর্বে অবস্থিত। খন্দক যুদ্ধের সময় এ পাহাড়ের পাদদেশেই মুসলমানদের অবস্থান ছিল।
সাওর এবং আইর পাহাড় : হুজুর (সা.) এই দুইটি পাহাড়ের মাধ্যমে মদিনার উত্তর ও দক্ষিণের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
যার একটি ওহুদ পাহাড়ের পেছনে ও আরেকটি জুল হুলাইফার কাছে অবস্থিত। এছাড়াও মদিনার ঐতিহাসিক পাহাড়গুলোর মধ্যে আছে জাবালুর রায়া, জাবালে নার, উতুমুল মাজাত, জাবালে হারাম।
বাকি আল গরকদ : এটি মসজিদে নববির পাশেই পূর্বদিকে অবস্থিত। মদিনাবাসীর প্রধান কবরস্থান। এতে হজরত ওসমান, হাসান, উম্মুহাতুল মুমিনিনসহ প্রায় দশ হাজার সাহাবার কবর রয়েছে।ওহুদ যুদ্ধে শহীদদের কবরস্থান : এটি মসজিদে নববি থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর দিকে অবস্থিত। এতে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ ৭০ জন সাহাবাকে দাফন করা হয়। হুজুর (সা.) প্রায় সময়ই এখানে আসতেন এবং তাদের কবর জিয়ারত করতেন। এছাড়াও মদিনার বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি কবরস্থান রয়েছে।




এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ডাঃ জাকির নায়েকের ১৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

ডাঃ জাকির নায়েকের ১৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে দেশটির অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট

মহানবী (সা.) এর শিক্ষা বর্তমান সময়েও দরকার : ভারতের হিন্দু গভর্নর

ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য

ব্যবসা-বাণিজ্যে হালাল-হারাম : ইসলামের পরিপূরন রূপরেখা

আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে

ইসলাম সন্ত্রাসবাদের উৎস নয় -জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল

ইসলাম সন্ত্রাসবাদে উৎস নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। মুসলিম দেশগুলোকে

মসজিদ বানিয়ে অপমানের শোধ নিলেন ভারতীয় এক নারী

ভারতে নামাজ পড়বেন বলে মসজিদে ঢুকতে চাইলেন এই নারী। নামাজ পড়তে তো দেননি, মসজিদের দরজা থেকেই তাকে

ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষই ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ যুগিয়েছে : লিজা

ফেসবুক স্ট্যাটাস জানিয়েছেন লিজা সাকলিন নামের এক মার্কিন নারী বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণিত

ইসলামের মানবিক ব্যাংকিং ধারা : অর্থনীতির সাথে সম্পর্ক

আল্লাহ মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক, প্রতিবেশীর সাথে আচরণ, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন, সমরনীতিসহ